ফেরে নি
কাকলি ঘোষ
সেই মেয়েটি আর বাড়ি ফিরল না।
ঠিক এক বছর আগে যার নাইট ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল।
আর সে ফিরল না।
হয়ত মা কে বলেছিল ,
” আলু দিয়ে মাছের ঝোল করে রেখো মা। আর সঙ্গে দুটো নারকেলের বড়া। আমি বাড়ি ফিরে খাবো। ”
আর সে ফিরল না।
মা হয়ত জানালার পাশে বসেছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন। কখন গলায় স্টেথোস্কোপ ঝোলানো সেই হাসি ভরা সুন্দর মুখখানি ফুটে উঠবে গলির মোড়ে। চলনে, বলনে আদ্যন্ত এক খানি ফুটন্ত স্বর্ণ চাঁপা ! সেই চাঁপা যে প্রবল সূর্য কিরন নিঃশেষে পান করে নিজের সৌরভ উজাড় করে দেয় —
কিন্তু এবার আর সে ফিরল না।
মা হয়ত কখনও বলে থাকবেন — কী প্রয়োজন এত বিপ্লবের? সমস্ত পৃথিবীর জঞ্জাল সরানোর ভার তো তোমার একার নয়। নীরবে থাকো। নিশ্চুপ হয়ে যাও। স্বার্থপর হও।
সে পারে নি। তার তরুণ প্রাণ, নবীন যৌবন তখন উত্তাল।
তাই সে আর ফিরল না
কিছু হিংস্র নর পশু তাদের তীক্ষ্ণ নখরে ছিন্ন ভিন্ন করে দিল তার দেহ। রুদ্ধ করে দিল প্রতিবাদী স্বর। নগ্ন করে দিল এই সভ্যতার আদিম রূপ।
তারপর কত শত প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আন্দোলন, মিছিল। পায়ে পা মিলিয়ে চলল আরো কত শত চাঁপা, বকুল, কৃষ্ণচূড়ার দল।
মেয়েটি কিন্তু আর ফিরল না।
না। এখন আর নারীর অপমানে ধরিত্রী দ্বিধা হয় না।বজ্রপাত হয় না সুনীল আকাশ থেকে। সময় আর থমকে দাঁড়ায় না। শুধু নীরব চোখ মেলে নিঃশব্দে দেখে বিচারের প্রহসন।
মা , বাবা বসে রইলেন প্রতীক্ষায়।
শুধু সেই মেয়েটি আর —-
—oooXXooo—
![]()







