নব ব্যারাকপুর, ১৮ আগস্ট, হিরন ঘোষাল নিউজ ব্যুরো আমার আলো (নিজস্ব সংবাদদাতা) — গত দুই দিনে নব ব্যারাকপুর শহর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল। ১৬ই আগস্ট নতুন একটি হাসপাতাল ও মাতৃসদনের শুভ উদ্বোধন এবং ১৭ই আগস্ট কৃষ্টি অডিটোরিয়াম প্রেক্ষাগৃহে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও শাস্ত্রীয় সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এই দুটি অনুষ্ঠানই নব ব্যারাকপুরের সামগ্রিক উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


১৬ই আগস্ট নব ব্যারাকপুরের বাসিন্দাদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। এদিন নব ব্যারাকপুর বিধানসভার বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিধায়ক তহবিল থেকে ও চিকিৎসকের উদ্যোগে নতুন রূপে সজ্জিত হলো নবব্যারাকপুর পৌরসভা পরিচালিত সম্পূর্ণ নতুন “ডাঃ বি. সি. রায় সাধারণ হাসপাতাল ও মাতৃসদনের” শুভ উদ্বোধন করা হয়। অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে এই হাসপাতালটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব অনেকটাই পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওইদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি মন্ত্রী শোভোনদেব চট্টোপাধ্যায় ও খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী রথীন ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, এই হাসপাতালটি শুধু চিকিৎসার কেন্দ্র নয়, এটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা। বিশেষ করে মাতৃসদনটি এলাকার গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য উন্নতমানের পরিষেবা দেবে, যা মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে সহায়ক হবে।
১৭ই আগস্ট সন্ধ্যায় কৃষ্টি প্রেক্ষাগৃহ এক ভিন্ন মেজাজে সেজে উঠেছিল। এদিন পৌরসভার গুণীজন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের সফল মানুষদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল তাঁদের কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার প্রতি এক বিশেষ সম্মান। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন নবব্যারাকপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান শ্রী প্রবীর সাহা মহাশয়।
সংবর্ধনা পর্বের পর শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রখ্যাত শিল্পীরা তাঁদের সুরের ও যন্ত্র সঙ্গীতের জাদুতে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। সরোদ বাদন- পণ্ডিত অলোক লাহিড়ী ও অভিষেক লাহিড়ী, তবলা সঙ্গতে- পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ, একক তবলা বাদন- ঈশান ঘোষ, কণ্ঠ সঙ্গীত- জয়তীর্থ মেভুণ্ডি সাথে হারমোনিয়ামে- হিরন্ময় মিত্র ও তবলা সঙ্গতে- পার্থসারথী মুখার্জী। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় – দেবাশিস বসু, সাউণ্ড-এ দাস এণ্ড কোঃ।
সবমিলিয়ে যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীতের যুগলবন্দী এক অসাধারণ পরিবেশ সৃষ্টি করে। গোটা প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে যেন শাস্ত্রীয় সংগীতের এক পবিত্র আবহ তৈরি হয়েছিল। উপস্থিত শ্রোতারা শিল্পীদের পারফরম্যান্সে আপ্লুত হয়ে ওঠেন।
সামগ্রিকভাবে, এই দুটি অনুষ্ঠান নবব্যারাকপুরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। নতুন হাসপাতালটি যেমন স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করবে, তেমনই সংবর্ধনা ও শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠানটি এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও মজবুত করবে।
![]()






