ডুয়ার্স
স্বপ্না নাথ
ওই নেমে আসে পাহাড়ি ঝরনা,
ধাপে ধাপে পাষাণ উপলে উপলে,
মনোমুগ্ধ জল কল্লোলে, তালে তালে,
নিঃশ্বাসে ভরে নিয়েই বনগন্ধী বাতাস,
বিচিত্র নয়নাভিরাম বুনো ফুলে ফুলে।
অগুনতি বৃক্ষরাজি দাঁড়িয়ে প্রহরিসম,
সভ্যতা নিষিদ্ধ এখানে,
আদিম গহীন আলোছায়া খেলা চলে,
মেঘলা সবুজ অরণ্যে অরণ্যে।
বনানীর বন্যায়, নিস্তব্ধ ঝিঁ ঝিঁ ডাকা সন্ধ্যায়,
কুলায় ফেরা বিহগের ডানায়,
বন্য প্রাণীর জ্বলে ওঠা চোখে,
ছমছমে রোমাঞ্চের অনুভূতি যেন ডেকে যায়।
সংকীর্ণতায় নগর মানব মানবী,
পারেনা উদার হতে, কান্তারে মিশে যেতে,
দূর হতে সংগ্রহ,
ক’দিনের ছবি আর ছবি।
প্রাতঃ ভ্রমণে, সম্মুখে হস্তির পদচিহ্ন,
নিশিতে ধান খেতে ছিল তার অভিযান,
লাঠি হাতে ভূমি সন্তান,
ঝোপ ঝাড় শতচ্ছিন্ন।
নগ হতে নিচে আসা জলধারা, শত ধারা বর্ষা,
বিন্দু,মূর্তি, জয়ন্তী, গুলশা,
দু’কুল ভাষায় প্রবল উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বাসে,
রায়ডাক, দলগাঁও, জলঢাকা, তিস্তা, তোরষা।
আদিবাসী নরনারী, ভোর হতে সারি সারি,
ছায়া গাছে সাজানো চা বাগান দিগন্ত বিস্তারি,
হরিৎ, যেদিকে নয়ন,হরিতে অবগাহন,
প্রকৃতির নির্যাস, নিয়ে যাই মন প্রাণ ভরি,
ভালোবাসি, তোমায় ভালোবাসি, ডুয়ার্স সুন্দরী।
—oooXXooo—
![]()







