দুর্গাপুর, ১৮ই জুলাই, ২০২৫: আজ দুর্গাপুরে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত ছিলেন, যা শহর এবং সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুর্গাপুরের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করে।
সকাল ১০টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুর বিমান বন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সরাসরি সভাস্থলে যান। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন হয় এবং হাজার হাজার উৎসুক জনতা তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমায়।
প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
1. নতুন শিল্প করিডোরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: এই করিডোরটি দুর্গাপুরকে রাজ্যের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের সাথে আরও ভালোভাবে সংযুক্ত করবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
2. উন্নত পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন: দুর্গাপুরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু নতুন রাস্তা এবং উড়ালপুলের উদ্বোধন করা হয়, যা শহরের যানজট কমাতে এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে মসৃণ করতে সহায়ক হবে।
3. স্বাস্থ্যসেবা খাতের সম্প্রসারণ: প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করবে।
সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দুর্গাপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং শিল্পাঞ্চল হিসেবে এর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দুর্গাপুর শুধু একটি শহর নয়, এটি ভারতের শিল্প বিপ্লবের একটি মূর্ত প্রতীক। এই শহর দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।” তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার দুর্গাপুরের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই অঞ্চলের সার্বিক বিকাশের জন্য সম্ভাব্য সবরকম সহায়তা প্রদান করবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তাঁদের মেধা ও প্রচেষ্টাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। তিনি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুর্গাপুরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফর স্থানীয় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং সফরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।
![]()






