বাঘেরম বাগদি
ড. মদনচন্দ্র করণ
(মাত্রাবৃত্ত ছন্দে শিশুপাঠ্য ছড়া-কবিতা)
মাত্রা: ১৪ (৭+৭)
কবিতা: ড. মদনচন্দ্র করণ
বাঘেরম বাগদি সাহসী ভারি,
মাথায় পাগড়ি, গাঁয়ে ধুতি সাদা,
গোঁফে পাক দিয়ে হাঁটে সে হেঁসে,
লাঠির বাড়িতে বাজে হায় দাদা!
ঢাল আর তলোয়ার বাঁশেতে বাঁধা,
পিঠে ঝোলানো পুরনো ষড়কি,
লাঠি ঘুরিয়ে মাঠে সে নামে,
দেখে পালায় পাড়ার মছরকি।
জমিনদার সঞ্জয় রায়ের সভায়
ডাকা হলো এক কাবুলি গুণি,
আফগান কুস্তিগীর, দানবের মতো,
গর্জে সে বলে— “আমি যুদ্ধকুণি!”
জরাসন্ধ যেন, জেদ তার চরম,
অট্টহাস্যে কাঁপে মাঠঘাট,
জনতা বলে— “এবারে বুঝি
ভীমকেই চাই, চাই বাঘেরম মাত!”
বাঘেরম হাসে, গোঁফে সে পাক দেয়,
“ভীমের উত্তর আমি বটে ভাই!”
লড়াই জমে মাঠেরই বুকে,
কুস্তির ঢাকে ওঠে শঙ্খস্বর গাই।
ধাক্কা-ধামসি, গুঁতোগুঁতি শুরু,
চোখে আগুন, কাঁধেতে আগুন,
লড়াই যেন মহাভারতের—
জরাসন্ধ-ভীম, ধ্বংসে আসুন!
তিন বার পাঁজর পাঁজরে ধাক্কা,
চতুর্থ টানে ভাঙে ব্যালান্স,
আফগান কাবুলি লুটিয়ে পড়ে,
বাংলার বাঘ হেরে না কোনো চান্স!
শঙ্খধ্বনি বাজে, ফুলে চন্দনে
সেজে থানায় যায় সে আজ,
পালকিতে চড়ে ফেরে বীর ফিরে,
চারদিকে বাজে “জয় বাঘেরম রাজ!”
জমিদার উঠে বলেন দাঁড়িয়ে—
“তুই আমাদের গাঁয়ের মান,
ভীমের মতন তুই যে জিতলি!”
হাতে তুলে দেন হাজার টাকার খান।
দেশের মাটি, সাহস আর বল,
জিতে নিতে পারে বিশ্বকে চল!
—oooXXooo—
![]()







