মায়া, বাঁধে বুকে অনুভবের রাখী
শ্রী নীলকান্ত মণি
ভাবের অভাব
হয়তো কভু গলা টিপে-ই ধরে
মায়ার এমনি প্রভাব!
শত প্রচেষ্টাতে ভুলতে চেয়েও
ভুলতে পারি তা কি!
ঠিক-ই!
সে যে কোথা থেকে আসে
কখন কোথায় যে সে
মিলিয়ে যায়
দেয় না আগাম আভাস!
সংশয়ে তাই থাকি!
ভালোবাসা
যেন কি এক মায়ার পরশ
কাঁদে কাঁদায় হৃদয়, হর্ষ জাগায়
সেই পুলকে
আলো-ছায়ায় খেলা সে তার
আপন পূর্ণ মায়ায়!
গভীর অভিসারে
তার সে যাওয়া-আসায়
যখন দিগ্বিদিক জ্ঞান থাকে না
কারো কাছেই
ঠিক-ঠিক তার আসার খবর
থাকে নাকি!
পরখ অনুভবের! সে যবে তার
হাত বুলিয়ে যায়, পেলব
কি এক অন্য স্নিগ্ধতায়
ক্ষণিক তরে ছুঁয়ে এ মন
হঠাৎ হারায়!
অপরূপ সে রূপের আভাস
রূপের প্রকাশ
আসে কাছে
ভালোবাসে, কন্ঠ জড়ায়
নিবিড় আলিঙ্গনে
অপরশের মধুর পরশ বিলায়
আনমনে তা আনে টেনে
বুকের কাছে
অনন্যতায়৷
তার মতো সে জুড়ি কোথায়!
মায়া! সে এক অবোধ আকর্ষণ
অশ্রুমুখী
যার অনুপস্থিতি স্থিত-অস্থিরতায় ঘেরা
প্রহর বাঁধে ডেরা, যেন সে এক নিমগ্নতা
ভোরের আগের রাতের আকাশ!
স্তব্ধ নীরব সে অবকাশ
মোক্ষম এক মগ্ন প্লাবন
বুক পাঁজরের ভিতরে তার
নীরব চলন
অবশেষে ভোরের হাওয়া বইবে যখন
দেহ-অঙ্গন সাজাবে সে সযতনে
স্মৃতির সে সব
কল্পিত এক ম্লান অবয়ব
কায়াহীনের কথা কওয়া
যতেক তাহার নীরব ভাষা
ভিজিয়ে নয়ন-পাতা অশ্রু ধারা হয়ে
ঝরে পড়ে না কি!
কপোল জুড়ে রেখায় রেখায়
সেই কথা তার
ফুটিয়ে তোলে না কি!
ছবি তাহার
আপনা থেকেই আসে ভেসে
মন-আয়নাতে আপনি ওঠে ফুটি
গভীর সুখের জুটি
প্রান্ত জুড়ে ওষ্ঠ ভরি মিষ্টি হাসি ছড়ায়
বিস্তার তার দু’ হাত বাড়ায়,
বলো, কি করে তায় ঠেকিয়ে রাখি!
ঠেকিয়ে রাখার ইচ্ছে হলেও
তা ঠিক নাকি!
ওরে অবোধ মন
এমনি করে দিস কারে তুই ফাঁকি!
মায়া, সে এক চমক জ্যোতির
বাঁধতে যে চায় বুকে, অনুভবের রাখী!
পাঠায় চিঠি, কোথাও সুপ্ত থাকি!
—oooXXooo—
![]()







