মাতৃ দিবস
বাসুদেব চন্দ
আগামীকাল মঙ্গলা ভীষণ ব্যস্ত থাকবে। সব বাড়ি থেকে বলে দিয়েছে তাড়াতাড়ি যেতে, কাল নাকি ঘরে ঘরে ঘটা করে ‘মায়ের দিন’ পালন করা হবে!
মঙ্গলা মনে মনে ভাবলে-“জানি নে বাপু, মায়ের-দিন, বাবার-দিন বলে কোনও দিন আবার হয় না কি! আমার বাপ- মায়ের যদি আলাদা আলাদা দিন হতো, তালি আমি জম্মাতাম কী করি, আর আমার কানাইও-বা জম্মাত কী করি!
ঢং দেখে গা জ্বলে যায়!
কানাইয়ের বাপই ভালো, রেশকো চালাক আর টনিক গিলে প্যাকাঠি পানা হাত পা ছুড়ে গালমন্দ করুক- ভালোবাসায় তার কোনও কেপনতা নেই!
বাবুদের এই নোক দেকানো ব্যাপার-স্যাপার মোটেএ ভাল্লাগে না”!
পরদিন কাকভোরে উঠে একেক করে সব বাড়ির কাজ সেরে ফেলল। শুধু ঘরের কাছে নটুদের বাড়িটাই বাকি।
এখন ও-দিকে যাচ্ছে আর ঠোঁট নেড়ে বিড়বিড় করছে-
“আজ বড্ড নেট হয়ে গেল! নটুর মা-র কাচে কত যে বকুনি খেতি হবে কে জানে! বড়ো বউদি এমনিতে মানুষটা ভালো, কিন্তু রেগি গেলি আর ওক্কে নেই”-
★★★
মঙ্গলাকে ঢুকতে দেখে বউদি বললেন- “আজ আর তোকে বাসন মাজতে হবে না; শুধু ঘরটা মুছে দিয়ে চলে যা, বাকিটা বিকেলে এসে করিস খোন”।
কথাটা শুনে মঙ্গলা খানিক স্বস্তি পেল- শরীরটা আর দিচ্ছিল না। খুশি মনে ঝাঁট দিতে দিতে দেখে অনেকগুলো গোলাপফুল এখানে-সেখানে পড়ে আছে।
একটা একটা করে আঁচলে তুলে নিয়ে বলল-
“এত সুন্দর ফুলগুলো মাটিতে পড়ে কেন গো বউদি?”
বউদি ভাবলেন ওগুলো বুঝি ওর নেওয়ার ইচ্ছে হয়েছে, তাই বললেন-
“তুই নিতে চাইলে নিয়ে যা না, ছেলে-মেয়ে দুটোকে তোএ জানিস, সাজিয়ে রাখা জিনিস নিয়েও ওদের খেলা চাই!”
★★★
গোলাপগুলো নিয়ে মঙ্গলা যখন বাড়ি ফিরছে তখন এক মাঝ-বয়সী লোকের সঙ্গে দেখা, হন্তদন্ত হয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন-
“গোলাপফুল? কত করে গো?
কী বলবে মঙ্গলা বুঝতে পারছিল না-
কোনও উত্তর না পেয়ে আবার বললেন-
“লজ্জা কোরো না গো, তুমি যা চাইবে আমি তাইই দেব”!
কথাটা বলেই পকেট থেকে দুটো একশ টাকার নোট বার করে ওর হাতে গুঁজে দিল, তারপর আলতো করে ফুলগুলো তুলে নিয়ে দ্রুতগতিতে চলে গেল।
মঙ্গলা কিছুক্ষণ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর ‘পাগল’ বলে ক্ষমা-ঘেন্না করে ঘরে ফিরে এল-
★★★
কানাই তখন গোষ্ঠদের পুকুর থেকে চান সেরে সবে ঘরে ঢুকেছে। মা-কে দেখে জিজ্ঞেস করল-
“তোমার শরীল ভালো আচে তো মা?”
“ওই আচে আর কী। নটুদের বাড়িতে থালাকটা মাজতি হয়নি বলে এট্টু আগে ঢুকতি পারুলম! সুদু আজ নয় রে; পায় রোজই বউদি বাসন মেজি রাকে!
আজ আবার এট্টা মজার কাণ্ড ঘটেচে রে কানাই-
হাসতে হাসতে সেই গোলাপ-পাগল লোকটার কথা বর্ণনা করল-
সব শুনে কানাই বলল-
“দাড়াও দাড়াও, ওই ফুলগুলো তো ওদের ছোটো বউ আমারে দে সকালে আনালে! তা তোমায় আবার দে দেলে কেনে?”
কথাটা শুনেই মঙ্গলা চোখ বড়ো বড়ো করে জিজ্ঞেস করল-
“আমার কাজের বাড়িতে তুই কি কত্তি গেচলি”?
“আমি তো যাচ্চিলুম পুকুরে চান কত্তি, ত্যকন শুনলুম ওদের বউগুলো তোমার আসতে দেরি হওয়া নে কি সব বলাবলি কত্তিচে! আমি মুক বাড়াতেই আমাকে গোলাপ এনে দিতে বললে। আমি বাসনগুলো মেজে তবে ওগুলো এনে দিলুম।”
আর যায় কোথায়- মায়ের মাথায় এবার রক্ত চড়ে গেল! তক্ষুণি ছুটল নটুদের বাড়িতে! সঙ্গে সঙ্গে কানাইও ছুটল, তবে লুকিয়ে লুকিয়ে!
★★★
মঙ্গলা ‘মা-চণ্ডী’র রূপ ধারণ করে বউদিকে বলল-
“তোমাদের সায়স তো কম লয় বউদি, আমার একয়ত্তি ছেলেটাকে দেক কিনা বাসন মাজালে! তাকে দে আমি কিচ্চুটি করাই নে কো। ছেলে আমার অনেক কষ্ট করি পড়াশুনো কত্তিচে! এট্টু ভালোমন্দ খাওয়াতে পারি নে, আর সেকেনে……..!
নোক খুজে নিয়ো, কাল থেকে আমি আর আসচি নে! এই টাকাটা রেকে দাও। দুশ আচে। গোলাপের দাম!”
জমে থাকা সমস্ত রাগ এ-ভাবে উগরে দেওয়ার পর ভূমি কাঁপিয়ে বেরিয়ে গেল।
তারপর এল কানাই-
“মা-কে কিচু বলনি তো জেটিমা?”
“তোর জন্যেই তো আজ যত গণ্ডগোল! কে বলেছিল রোজ রোজ এসে বাসন মেজে দিতে! দেখলি তো সব নিজের চোখে, কী অপমানটাই না তোর মা করে গেল!”
কাঁচুমাচু-মুখ করে কানাই কইল-
“তোমার কি দোষ, মা-র কষ্ট হবে দেকে আমি নিজেই তো করেচি!
মাথা চুলকোতে চুলকোতে বলল-
একন আমি যাই গো জেটিমা, মা এতক্ষণে আমায় খুজতে শুরু করে দেচে!”
★★★
মঙ্গলা পরের দিন ঘুম থেকে উঠে ঘরের কাজকম্ম সেরে আগে গেল বড় বউদির কাছে।
গিয়ে দেখে ওই ভারী শরীর নিয়ে বসে বসে বাসন মাজছে।
“অনেক হয়েচে; ওগুলো একে দাও, আমি সময় মতো এসে মেজি দোবোকোন। তুমি বরণ ওদিকের কাজ সারো-গে যাও!”
অভিমানের গলায় বউদি বললেন-
“আমার কথা তোকে আর ভাবতে হবে না! কিছু জানলি না বুঝলি না, যা খুশি তাই বলে গেলি! আমি যে কী জ্বালায় জ্বলছি তা তুই কী করে বুঝবি!”
বউদির চোখে জল দেখে মঙ্গলা বসে পড়ল বাসন মাজতে। জোর করে হাত দুটো ধুইয়ে দিয়ে বলল-
“আমার অল্লায় হয়েচে, আর বলবনি! তুমি একন আন্নাঘরে যাও দিকি। আজ ইশকুল-আপিস নেই না কি!”
মঙ্গলা বাসন মাজছে আর ভাবছে-
“সত্যিই তো, কতদিন হতি চলল বদ্দা ফিচ্চে না! বউদি একলাই তো সব সামলে যাচ্চে! পোত্তেকের খেয়াল রাকচে- নিজের দুটো ছেলেপুলে, বুড়ো বুড়ো দুটো শ্বউর-শাউড়ি, দুটো দেওর আর বউ। বাহ-বাঃ, এসব কী চাট্টীকানি কতা!
তারওপর পোতিদিন নেওম করে বদ্দাকে ফোন করা, যাজ-য্যা পোয়জন সব তাকে জানানো- এসব কি কম জক্কি!
ওদিকে বদ্দাও করে যাচ্চে- নিজে না আসতি পাল্লে কি হবে- সবার জন্যি সব পাইটে দিচ্চে বন্দু হিরুদাদাকে দে!
তাতেও শান্তি নেই কো, এ-বাড়িতে বন্দুর আসা নেয়েও কত নোক কত কতা কইচে- বউদি সব মুক বুজি1 সজ্জি কচ্চে!”
বাসনগুলো মেজে নিয়ে বউদিকে দিয়ে আসে। রান্নাঘর থেকে যখন বেরোচ্ছে তখন ঠাকুর’ঘর থেকে এগিয়ে আসেন নটুর ঠাকুমা-
“মঙ্গলার গলা পাচ্ছি মনে হচ্ছে-
ও বউ, তোর সঙ্গে তো আজকাল আমার দেখাই হচ্ছে না রে!”
“আমি জ্যাকন আসি ত্যাকন তুমি পুজো করো গো মা, তাই দ্যাকা হয় নাকো।”
“কাল থেকে আমি তোকে খুঁজে মরছি। আয় দেখি একবার আমার সঙ্গে।”
“আমার যে মেলা কাজ পড়ি আচে গো মা”-
“আয় না বাপু, দু’মিনিটের তো কাজ।”
নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ঠোঙা হাতে দিয়ে বললেন-
“এটা তোর জন্য রেখেছি। একটা আলতা-সিঁদুর, একটু মিষ্টি আর একুশটা টাকা আছে। তোর মেসোমশাই বিশেষ বিশেষ দিনে এসব দিতেন আমায়! এখন তো ওঁর কিছুই মনে নেই!
বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুধু বড় খোকার খবর নেয়- কেমন আছে, কবে আসবে? খুব দেখতে চায় ওকে!”
“খোকার তো আসার সময়ই হচ্ছে না। অথচ দেখ, হিরু কেমন ফিরে এসে সংসার-ধর্ম করছে!
লম্বা একটা শ্বাস ফেলে বললেন-
আমরা চোখ বুঝলে তবে যদি আসে!”
কাপড়ের খুঁট দিয়ে চোখের কোণের জল মুছেএ বললেন-
“তা কাল নাকি কী সব দিন পালনের উৎসব-টুৎসব ছিল! ওসব আমরা ঠিক বুঝি না রে। আরে বাবা দেয়া-থোয়া, শুভেচ্ছা-ভালোবাসা এসব তো আমাদের চিরকালের অভ্যেস, যে-টা লালন করে আসছি বাবা-জ্যাঠার আমল থেকে। কিন্তু আজকাল দেখ, সব পালনের উৎসব! আজ অমুক ডে, কাল তমুক ডে, আর :পরশু’ আসতে না আসতেই ডিভোর্স দে!”
মঙ্গলা এতক্ষণ ধরে মাসিমার তালে তাল ঠুকে কখনও হেসেছে, কখনও বা কেশেছে, কিন্তু শেষে এসে এক্কেবারে হোঁচট খেয়ে পড়েছে। তাই আর ঝুঁকি না নিয়ে মাথা চুলকে বলেই ফেলল-
“ও মা, তুমি যা কটিন কটিন কতা কইচো ওসব আমার গোবর-মাতায় ঢুকতিচে না গো।”
“না ঢোকাই ভালো রে। ছাড় ও-সব কথা, যা বলছিলাম- হ্যাঁরে মঙ্গলা, আজ দুপুরে আমাদের বাড়িতে চাট্টি মাছ-ভাত খেয়ে যাস না রে। কানাইকেও সঙ্গে নিয়ে আসিস।”
“না গো মা, সেটি হচ্চে নাকো। কেনে বলি তালি শোনো-
কানাইয়ের বাপ লাইন থেকে ফেরার পতে আমার জন্যি চাড্ডি কুচো মাচ নে আসে। এটা একদিন নয় গো, পোতিদিন। কারণ ও জানে- এট্টু মাচের গন্দেই আমি পেট পুরে খে-নিতে পারি!”
এ কথা বলে আহ্লাদী-লজ্জা-মাখো ভঙ্গীতে ঘোমটায় খানিক আড়াল দিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলটা মেঝের ওপর নাড়ীয়ে-বাঁকিয়ে সোহাগ প্রকাশ করল!
মঙ্গলাকে দেখে মাসিমাও যেন নিজের বউবেলাকে এক ঝলক দেখে নিলেন!
না, মঙ্গলা’র বলা এখনও শেষ হয়নি, তাই মাসিমাও ও-র থেকে চোখ সরাননি-
“জানো তো মা, ঐ মাচ আমার বেধবা শাউড়ি নিজের হাতি আন্না করে, আর আমরা সবাই তা চেটেপুটে খাই!”
এবার লজ্জার মাত্রাটা আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“আর এট্টা কতা শুনলে তুমিও নজ্জা পাবে গো মা-
জানো তো, আমি কাজ থিকে ফিললে কানাইয়ের বাপ আমায় কিচ্চুটি কত্তি দেয় না কো।
এমন কী দুকুরের খাবারটাও আমায় বেড়ে দেয়!”
এ-কথা বলেই ঠোঁটের কোণে এমন হাসি হাসল যে খুশির ঢেউ সারা শরীরজুড়ে ‘ছলাৎ’ করে ছুঁয়ে গেল!
বড় বউদি ততক্ষণে সবাইকে খাইয়ে-দাইয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে শাশুড়ি মা’কে কিছু বলবেন বলে এ-দিকে আসছেন-
মঙ্গলাকে দেখে বললেন-
“এই যে বড়লোকের বিটি-লো, আমি দিনদিন গরিব হচ্ছি, আর তুই১ কারণে-অকারণে টাকা বিলোচ্ছিস! কারণটা কী রে?”
“আরে শোনো শোনো কী হয়েচেল কাল……”!
বড়ো বউদির সঙ্গে হাসি-মজা করতে করতে মনে পড়ে গেল বাকি বাড়িগুলোর কথা- অমনি ছুট লাগাল পইপই করে।
★★★
আজ টুসির পরপর দু’জন টিচার না আসায় শেষের ক্লাসদুটো হয়নি। তাই অনেক আগে বাড়ি ফিরে এসেছে। এমনিতেই দু’দিন ধরে মন-মেজাজ ভালো নয়, তারওপর ‘মা ঘরে নেই’- শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল!
মনের আর দোষ কী-
স্কুলের মেয়েরা মা আর হিরু’কাকুকে নিয়ে আজকাল খুব নোংরা নোংরা কথা বলছে!
আজও বলছিল…..!
ছিঃ ছিঃ, এ-সব আর শোনা যাচ্ছে না!” কথাগুলো মনে পড়তেই কানে হাত দিল!
আজই সুযোগ মায়ের ঘরে ঢোকার। আজকাল মা ভাইকে ছাড়া কাউকেই নিজের ঘরে ঢুকতে দেয় না! আলমারিটাও সারাক্ষণ আটকে রাখে!
মা আর আগের মতো নেই, কেমন যেন হয়ে গেছে! কিছু জিজ্ঞাসা করলেই রেগে যায়, কিছু যেন লুকোচ্ছে মা!
এতদিন হয়ে গেল বাবাও যে কেন আসছে না! তাহলে কি ওরা যা বলছে সেটাই ঠিক?
গুটিগুটি পায়ে মা-র ঘরে ঢুকে পড়ে-
প্রথমে গেল টেলিফোনের কাছে। এর আগে কখনও বাবার অফিসে ফোন করেনি। মিলিটারি অফিসারদের খুব ভয় পায় টুসি, কাজের সময় ডিস্টার্ব করলে যদি বকে দেয়!
তবু আজ সাহস করে ডায়াল ঘোরাল- একবার, আরেকবার আরও একবার-
কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ নেই! ফোনটা কী ডেড হয়ে গেল! উঃ, আজই ওকে মরতে হলো!”
রাগে দুঃখে কান্না পেয়ে গেল টুসির!
“কালকেই তো মা জোরে জোরে বাবার সঙ্গে কথা বলছিল! সে কত কথা!”
টুসি হাল ছাড়ল না, টেলিফোন সেটটাকে ভালো করে নেড়েচেড়ে দেখতে লাগল-
“এ কি! টেলিফোনের তারটাই তো কাটা, মাকড়সার জাল জড়িয়ে আছে সারা তারজুড়ে! সব কেমন গোলমাল লাগছে, মনে হচ্ছে ঘরটা যেন দুলছে!
মন শক্ত করে এগিয়ে গেল আলমারির দিকে, মনে হয় তাড়াহুড়োয় চাবি দিতে ভুলে গেছে! ভালোই হয়েছে!
তাড়াতাড়ি আলমারি ঘাঁটতে শুরু করল টুসি- অনেক খোঁজাখুঁজির পর কাপড়ের নিচ থেকে দুটো ফাইল পাওয়া গেল, বাবার অফিসের কাগজপত্র রয়েছে!
একটা কাগজে চোখ পড়তেই বুকের ভেতরটা ফাঁকা হতে শুরু করল….!
অন্ধকার হয়ে গেল চতুর্দিক….!
শরীর ক্রমশ নিথর হয়ে এল…….!
“সবাইকে আনন্দে রেখে মা একা একাই সব দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছে! দিনের পর দিন, মাসের পর মাস!
কী ভাবে পারো গো মা!”
টুসি ওই কাগজটা বুকে জাপটে ধরে কাঁদতে লাগল!
★★★
মা গেছে নিজের মায়ের কাছে, কোলে মাথা রেখে মনের সুখে একটু কাঁদবে বলে!
—oooXXooo—
![]()






