*নিজের সাথে*
নবু
প্রতিদিন একবার নিজের সাথে কথা বলো,
কথাটা যতই অচেনা হোক,
তবুও কখনো কখনো, সব কিছু ছেড়ে,
নিজের সঙ্গেই সবকিছু গল্প করা প্রয়োজন।
এই শহরের কোলাহলে,
এই পৃথিবীর অসীম ব্যস্ততায়,
নিজের কথা, নিজের অনুভূতি,
এটা আর কেউ বুঝবে না।
কিন্তু নিজের সঙ্গে কথা বললে—
থামানো যায় এক ফোঁটা চোখের জল,
থামানো যায় যন্ত্রণার দীর্ঘ রাতগুলো,
যা কখনো বুঝানো যায় না কাউকে।
এক এক দিন, মনে হয়,
কি শূন্যতাই না আমাকে ঘিরে রেখেছে।
সব চেয়ে বড় একাকীত্ব, যখন নিজের কথা ভাবি,
যেটি নিজের কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়।
আমাদের সমস্ত কথাই মিথ্যে হয়ে যায়,
একা থাকার মিথ্যে শব্দগুলো
মাঝেমাঝে ধ্বনিত হয়ে উঠে।
তবুও, আমি নিজেই কথা বলি,
যতটা সম্ভব, যতটা পারি, যতক্ষণ পারি,
এই শহরে, এই রাতের নিস্তব্ধতায়।
কারণ, কেউ আর নেই যে—
মুখ খুলে বলবে, “তুমি কেমন আছো?”
অথবা, “এতটা নির্জন কেন তোমার পৃথিবী?”
তবে, এই একাকী সময়টা,
যতটা কষ্ট দেয়, ততটাই ভালোবাসা দেয়।
নিজের সঙ্গেই কথা বললে,
শুধু মনের ভেতরকার গভীরতা বেরিয়ে আসে,
নিজের দুর্বলতা, নিজের অক্ষমতা
একটু একটু করে মেনে নিতে হয়।
এটাই কি জীবনের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ নয়?
নিজেকে মেনে চলা, নিজের সঙ্গেই শান্ত থাকা?
তবুও, মাঝে মাঝে,
নিজের দিকে ফিরে তাকালে মনে হয়—
আসলেই আমি তো একাই।
তবুও, সেই একাকীত্বে
কিছু একটা আছে, যা আমার অন্তরে
আশা জাগায়,
মুখের কোণে হাসি এনে দেয়,
আর বলাই যায়—
“আমি এখানে আছি, নিজেকে ভেঙে যাই না।”
নিজের সাথে একা,
নিজেকে ভাবি, নিজের জন্য কিছু সময় নিই,
এই ছোট্ট মুহূর্তগুলোই তো
আমাকে আবার নতুন করে শুরু করতে শেখায়।
কারণ, এই ছোট ছোট কথা,
এই ছোট ছোট সময়ের অবকাশ,
এগুলোই তো নিজেকে ভালোবাসা,
এগুলোই তো আত্মবিশ্বাসের প্রথম রূপ।
এই একা থাকা,
নিজেকে এক পা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস।
—oooXXooo—