রাজস্থান
স্বপ্না নাথ
এই জয়পুরে,
আমার প্রথম পদার্পণ,
চরৈবেতি, রাজভূমি দর্শন।
পথ চলা তপ্ত রোদে, বালু প্রান্তরে,
পথে জলরেখা আঁকে আলেয়া সম নিসর্গ দর্পণ।
রাজপুত এর যশগাথা,
না বঞ্চনার ইতিহাস?
পায়ে পায়ে এগিয়ে যাওয়া,
সেই পাষান দম্ভের দ্বারে।
রুক্ষ চরাচরে, ফণীমনসার ফাঁকে,
একলা বাতাস মাথা কুটে মরে, কেল্লার পদপ্রান্তে।
দেখো দেখো, এইখানে কারুকার্যময় ঝরোখায়,
দিনমণি আলপনা আঁকে, নিপুন ছিদ্রপথে।
যেন ঐ শোনা যায় হ্রেসাধ্বনী,
শত রানীর আভরণের কিঙ্কিনী।
ঐতো চিতোর দুর্গ,
রানী পদ্মিনীর প্রতিবিম্ব,
ঝিলের সোপান শেষে বিজলির চমক,
কেল্লার আরসিতে খিলজির লালসার দর্শন।
অথবা রূপের বহ্নিতে অবগাহন!
কে জানে অতীতের মন,
রাজভুমি, না রক্ত রণাঙ্গন!
এখন আমি, অন্তরে রনময়,
খুঁজে ফিরি সেই সময়,
অশ্ব পরে দীপ্ত ময় রানা প্রতাপ,
জীবন্ত ইতিহাস, ধুলাই লুটায়,
অস্ত রবির গোধূলি বেলায়।
এই সেই জহর ব্রতের পাষাণ!
সময় বলে সম্মানের নয়,
শত শত কুসুমের কণ্ঠরুদ্ধ করে,
লজ্জার অগ্নিশিখায়,
হায়রে, হননের ইতিকথা, যশোগাথা ময়?
ওই বাবলার কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত,
রায়তের শোনিতে সিক্ত,
আকাশছোঁয়া দুর্গের মাথায়,
অহমিকা ওড়ে রক্ত পলাশের মত।
মরীচিকা এখন,
নিস্তব্ধ শীতল বালুকার চরাচরে,
সমুন্নত ইতিহাস স্বদম্ভে,
একাকী মন্থন করে,
রাজপুরী কথা, নিশিতে র আধাঁরে।
—oooXXooo—